Saturday, 11 April 2020

আপনার অনুপ্রেরণামূলক দক্ষতা কীভাবে উন্নত করবেন, সিরিজ-১১০(প্রেরণা)[How to Improve Your Motivational Skill, Series-110 (Prerana)]

প্রেরণা সিরিজ ১১০,PRERANA SERIES-110 (Motivational & Inspirational)
লেখক – প্ৰদীপ কুমার রায়।

আগেই বলে নিচ্ছি কেননা তোমরা পরে ভুলে যাবে বাকি অন্যান্যদের  সাহায্যের উদ্দেশ্যে শেয়ারটা মনে করে,করে দেবে এবং ডানদিকের উপরের কোনে অনুসরণ বাটন অবশ্যই ক্লিক করে অনুসরণ করবে।শুরু করছি আজকের বিষয়   নমস্কার বন্ধুরা আমি প্রদীপ  তোমাদের সবাইকে আমার এই Pkrnet Blog  স্বাগতম।  আশা করি সবাই তোমরা  ভালোই  আছো  আর  সুস্থ আছো।

ইমেজ সোর্স : ফেসবুক 

আমাদের হারিয়ে যাওয়া মনুষ্যত্ববোধ ও চারিত্রিক গুণাবলি ফিরিয়ে আনতে চাই পারস্পরিক সম্প্রীতি। পরিতাপের বিষয় আজ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সম্প্রদায়গত ভেদবুদ্ধি মানুষের প্রতি আচরণে ঘৃণ্য বর্বরতায় মেতে উঠেছে। সভ্যতা ও সংস্কৃতির ওপর কলঙ্ক লেপন করছে। মানবিকতাকে করছে পদদলিত। যারা মানবিকতাকে অস্বীকার করে শুধু ধর্মের প্রচলিত যুক্তিহীন আচার-অনুষ্ঠানে ও বিশ্বাসে দায়বদ্ধ থাকে, তারাই মৌলবাদী। কোনো কোনো দেশের মৌলবাদীরা নিজ স্বার্থেই অন্ধ অনুগামীদের অন্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতি অসহিষ্ণু করে তুলছে। মৌলবাদীদের প্ররোচনাতেই সম্প্রতি বিভিন্ন দেশে সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মীয় বিদ্বেষ উগ্র রূপ ধারণ করছে। মনুষ্যত্বহীন মানব পানিবিহীন সাগরের মতো। পানিহীন সাগরের যেমন পরিচয় পাওয়া যায় না, ঠিক তেমনি মনুষ্যত্বহীন মানুষেরও কোনো পরিচয় নেই। মনুষ্যত্ব আমাদের অন্তরের বিষয়। আর এ অভ্যন্তরীণ বিষয়কে জাগ্রত করতে আমাদের চাই আন্তরিক ইচ্ছা। এ মনুষ্যত্ব গড়ে তোলার জন্য আমাদের চাই মানসিক শক্তি, অন্তরের দৃঢ় বিশ্বাস, যা আমাদের প্রগতির পথে এগিয়ে যেতে ও বিভিন্ন বিপদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করবে। এ সংগ্রামে জয়ী হলেই আমরা প্রকৃত মানুষ হতে পারব।

মহাভারত থেকে - অর্জুন : মানুষ নিজের সন্তানের জন্য শ্রম করে, নিজের সন্তানের কাছে সুখের আশা করবে না? কৃষ্ণ : মানুষ তার সন্তানের জন্য যাই করে থাকে তা কি ব্যাবসা নাকি প্রেম? অর্জুন : প্রেম! কৃষ্ণ : তাহলে নিজের কার্যের প্রতি ফলের আশা কেন? ভবিষ্যতে লাভ তো ব্যাবসায় দেখা হয়, প্রেমে নয়। যে মানুষ তার সন্তানের চরিত্রের নির্মান উচিৎরূপে করে, সন্তানদের প্রেম আর ধর্মের সংস্কার দিয়ে থাকে, তার সন্তানেরাও তাকে প্রেম ও সুরক্ষা অবশ্যই দেয়। সন্তানদের কর্ম, সজনদের ব্যাবহার তাদের কর্ম। আর জখন তাদের কর্মের উপর আমাদের কোন অধিকার থাকে না তাহলে তাদের নিকট আাশা বা আাকাংখা রাখা কি প্রয়োজন? যদি গভীরভাবে চিন্তা করো তাহলে শিঘ্রই জেনে যাবে যে জীবনে এমন কোন কার্যই নেই যার সাথে আশা এবং আকাঙ্খা যুক্ত করা অনিবার্য। যখন সৃষ্টিই পরমাত্মা, আর মানুষ এই পরমাত্মারই অংশ তখন সকল কার্য এই পরমাত্মাই করেন। মানুষ স্বয়ং কিছুই করে না। এটিই কর্মযোগের মূল সিদ্ধান্ত। তোমাকেও কর্মযোগী হয়ে এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে হবে। তিনটি গুন ত্যাগ করে নির্গুন হয়ে যাও। এই দন্দ মুক্ত হয়ে যাও। সর্বদা স্বত্য অর্থাৎ পরমাত্মায় বুদ্ধি প্রয়োগ করে কর্তব্য নির্বাহ করতে থাকো। কিছু প্রাপ্তি লাভের আাশা আর কিছু প্রাপ্ত বস্তুকে সংরক্ষন করার ইচ্ছা ত্যাগ করো , আর নিজের আত্মাকে সতন্ত্র করো।

জীবন পরিচালনার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বাণী যার সবকটি মহাভারত থেকে নেওয়া -

★যদি কোন ঘটনার মানুষ বেশি ভয়প্রাপ্ত হয় তবে তার পরাজয়ই হয়। আর যে মানুষ সব হারিয়েও শান্ত আর একাগ্র থাকে সেই জয়ী। (যাদবশ্রেষ্ঠ ভগবান শ্রী কৃষ্ণ)
★ধর্মের উপদেশ দেয়া যায়, আদেশ কিছুতেই দেয়া যায় না। সকলকে নিজের ধর্ম স্বয়ং নিশ্চিত করতে হয়। -(বেদব্যাস)
★যে বস্তু সহজেই লাভ করা যায়, সে বস্তুর প্রতি মানুষের মূল্যবোধ থাকে না।---(মহামন্ত্রী বিদুর)
★যারা শত্রুর শত্রু হয়, তাদের সাথে বন্ধুত করতে হয়।যেখানে বল কাজ করবে না সেখানে ছলের প্রয়োগ আবশ্যক --( শকুনি)
★যখনই মানুষের জীবনে কোন বিরূপ পরিস্থিতি আসে মানুষ তখনই ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে। ঈশ্বরের সম্মুখে মিনতি করে যেন সে পরিস্থিতি থেকে নিস্তার পায়। কিন্তু এই প্রার্থনার বাস্তবিকরূপ কেমন হয়? সেটা কি আমরা কখনও বিবেচনা করেছি? প্রার্থনার অর্থ হল নিজের সমস্ত আকাঙ্খা, সমস্ত চিন্তা, সমস্ত সংকল্প, সমস্ত পরিকল্পনা ঈশ্বরের চরনে দান করা। অর্থাৎ নিজের কর্মেল ফল কি হবে সেই নিয়ে চিন্তা না করে ধর্মের অনুরূপ কর্ম করা। ঈশ্বরের পরিকল্পনাকেই নিয়তি বলে মেনে নেয়া সেটাই তো প্রার্থনা, তাই না? কিন্তু ঈশ্বরের সমস্ত পরিকল্পনা বোঝা সম্ভব কি? সেসব পরিকল্পনা তো আমাদের কর্মের পরিনামস্বরূপ প্রকাশ পায় সর্বদা। কিন্তু যদি কেউ সবকর্মকেই ত্যাগ করে, সেটা কি প্রকৃত প্রার্থনা? বাস্তবে কর্মই জীবন আর ফলের প্রতি মোহ না করাই সত্যিকারের প্রার্থনা। যে প্রার্থনা কর্মের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, মানুষকে কার্যই করতে না দেয়, সেটা প্রার্থনা না পরাজয়? স্বয়ং বিচার করুন।

জীবনে অনুপ্রেরণার গুরুত্ব যে কতটা, তা আমরা কমবেশি  প্রত্যেকেই জানি। প্রত্যেক মানুষই চায়  তারা যেন সর্বদা অনুপ্রাণিত থাকেন। এই অনুপ্রেরণা মূলক বিচার গুলিকে বাস্তব জীবনে ঠিক  মত মেনে চললে যে কোনো মানুষের জীবন অনয়াসেই বদলে যেতে পারে

মোটিভেশনাল ভিডিও দেখতে উপরের ডানদিকের কর্নারে YouTube লিঙ্ক অথবা এখানে Pkrnet এই লিঙ্কটির উপর ক্লিক করুন।
এতক্ষণ সময় দিয়ে পড়ার জন্যে তোমাকে  অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই  পিকেআর নেট  ব্লগ - এর পক্ষ থেকে | 
পোস্টটা ভালো লেগে থাকলে অবশ্যই একটু Comment করে তোমার মতামত আমায় জানিও |তোমার মূল্যবান মতামত আমাকে বাড়তি অনুপ্রেরণা যোগাতে ভীষনভাবে সাহায্য করে।

No comments:

Post a comment