Tuesday, 24 March 2020

সহ্যশক্তি থাকা ভীষণ ভালো, কিন্তু কিছুক্ষেত্রে রাগ প্রদর্শন করাও প্রয়োজন।)[How to Improve Your Motivational Skill, Series-98(Prerana)]

লেখক – প্ৰদীপ কুমার রায়।
ইমেজ ক্রেডিটঃ ফেসবুক
সহ্যশক্তি থাকা ভীষণ ভালো, কিন্তু কিছুক্ষেত্রে রাগ প্রদর্শন করাও প্রয়োজন। বিশেষ করে যেখানে হাসিমুখে কাজ হয়না, সেখানে হাত মুঠো করা ভীষণ জরুরী। রাগ দেখানো খারাপ নয়, কিন্তু রেগে যাবার আগে তুমি কতক্ষণ ঠান্ডা মাথায় সিচুয়েশনকে হ্যান্ডেল করতে পারছ সেটা সবচেয়ে বেশি জরুরী। মহাদেব তাঁর শ্বশুর দক্ষ প্রজাপতিকে বহুবার সহ্য করেছিলেন। দক্ষ কথায় কথায় শিবকে অপমান করত, ভিখারি বলত, শিব রাগ করতেন না। বাগধারাতে আছে, “বোবার শত্রু নেই”। শিব ঠিক সেভাবেই সব অপমান হাসিমুখে সহ্য করে নিতেন, কোনো উত্তর দিতেন না, পুরুষত্ব জাহির করার জন্য শ্বশুরের সাথে বাগবিতণ্ডায় জড়াতেন না। দক্ষ এতে আরও প্রশ্রয় পেয়ে গেছিল। অতঃপর যখন দক্ষের কারণেই সতীর মৃত্যু হল তখন গিয়ে মহাদেব তান্ডব শুরু করলেন নটরাজ রূপে। গোটা পৃথিবী মহাদেবের ক্রোধের আগুনে জ্বলে উঠল। সেই মুহুর্তে দক্ষ বুঝলেন শিব কেন ধ্বংসের দেবতা। দক্ষযজ্ঞ পন্ড তো হলই, উপরন্ত দক্ষ নিজের সাধের মুন্ডুটাও হারালেন ত্রিশূলের খোঁচায়। কিছু মানুষ আছে, তাদের তুমি ফাইভ স্টার রেস্তোরাঁয় খাওয়াও, কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা খরচা করো, সারাদিনের অধিকাংশ সময় তার মনোরঞ্জনের জন্য ব্যয় করো কিংবা তাকে প্রাণ দিয়ে ভালোবাসো, তবুও দিনের শেষে সে তোমায় ছেড়ে চলে যাবে। বরং যাবার আগে ছোটখাটো কিছু অজুহাত দিয়ে যাবে অথচ এতদিন তুমি তার জন্য যা যা করলে সেগুলো দেখবেই না। মহাদেব কিছুই তোমার থেকে চাননা, শুধু একটু ভালোবাসা চান। মহাদেব একটা বেলপাতাতেই তুষ্ট। তিনি দেখেন না, কত লিটার দুধ ঢাললে বা কত টাকা প্রণামী বক্সে দিলে, তিনি শুধু দেখেন তুমি তাঁকে মন থেকে ভালোবাসো কিনা। পুরাণ ঘাঁটলেও দেখতে পাবে, মহাদেব কত অনাড়ম্বর জীবনযাপন করতেন। সতী কিংবা পার্বতী দুজনেই মন থেকে মহাদেবকে স্বামীরূপে চেয়েছিলেন, মহাদেব তাঁদের সারাজীবন ভালোবেসেছেন, বিনিময়ে কিছুই চাননি। এই একটা কারণেই মেয়েরা শিবকে তাঁদের পতি হিসাবে চান। এই গুন কজনের থাকে?

ইমেজ ক্রেডিটঃ ফেসবুক
কথায় আছে, Charity begins at home. দুনিয়ার সব নারীদের সম্মান করার আগে নিজের প্রেমিকা, স্ত্রী বা মাকে সম্মান করো। মহাদেব পার্বতীকে শক্তিরূপে উপাসনা করতেন। শিবই সেই ব্যক্তি যিনি পার্বতীকে বুঝিয়েছিলেন, যে তিনি কেবলমাত্র হিমালয় কন্যা নন, তিনি আদ্যাশক্তি মহামায়া। শিবের কথাতেই পার্বতী তাঁর ভেতরের শক্তিকে জানতে পেরেছিলেন। কতজন পুরুষ আছে, যে তাঁর স্ত্রীকে কাজ করার জন্য উৎসাহ দেয়? বরং অধিকাংশই চায়, তাঁর স্ত্রী চাকরিবাকরি না করে ঘরসংসার সামলাক, রান্নাবান্না করুক। খুব কম মানুষই বাহুবলী হয়, যে কিনা নিজের হাতে প্রেমিকাকে তীর চালানো শেখায়, যুদ্ধের জন্য উৎসাহ দেয়। মেয়েরাও যে লড়াই করতে পারে, একথা সর্বপ্রথম দুর্গাই প্রমাণ করেছিলেন, আর দুর্গাকে সেই লড়াইয়ে প্রেরণা যুগিয়েছিলেন মহাদেব। এমনকী পার্বতী যখন কালীরূপে হিতাহিতজ্ঞানশূন্য হয়ে পড়েন, তখন শিব কালীর পায়ের নীচে নিজের বুক পেতে দেন। অত শক্তিশালী মানুষ তাঁর স্ত্রীয়ের পায়ে বুক পাততে দ্বিধাবোধ করেননি, তাঁর পৌরুষে লাগেনি। প্রকৃত পুরুষ সেই, যার পৌরুষ আছে কিন্তু পৌরুষ নিয়ে অহঙ্কার নেই।
 
ইমেজ ক্রেডিটঃ ফেসবুক
 অনাড়ম্বর জীবনযাপনের কথা হলই যখন, শো অফের ব্যাপারটাও বলে শেষ করি। মহাদেব পার্বতীকে বিয়ে করতে গেছিলেন বাঘছাল পরে, গায়ে ছাই মেখে। সেটা দেখে শাশুড়ি মেনকা হেঁচকি তুলে ভিমড়ি খেয়ে পড়ে গেছিলেন। অগত্যা দেবতারা শিবকে ভালো পোশাক আর গয়না পরিয়ে, স্নান করিয়ে বিয়ের জন্য প্রস্তুত করেন। তখন মেনকা নিজেই শিবের রূপ দেখে লজ্জা পেয়ে যান। মহাদেব সাজপোশাকে বেশি নজর দিতেন না, বরং ভেতর থেকে নিজেকে শক্তিশালী আর পরিশুদ্ধ করার চেষ্টা করতেন। এখনকার দিনে কিছু মানুষ হাজার হাজার টাকার পোশাক পরে কিংবা নামী স্যালোন থেকে ফেসিয়াল করে নিজেকে ঝাঁ চকচকে করে ঠিকই, কিন্তু তাঁদের বুক চিরলে দেখতে পাবে হৃদয়টা কয়লার মতই কালো। এমন মানুষদের বাইরে থেকে দেখে অনেকেই প্রেমে পরে, কিন্তু তাঁদের সাথে সারাজীবন কাটাতে পারেনা। এরা কারুর ভালোবাসাও পায়না। চকচকে ভেতর থেকে হও, বাইরে থেকে নয়।

                                                                        ইমেজ ক্রেডিটঃ ফেসবুক
শ্রেষ্ঠ প্রেমিক বলতে ইয়ং জেনারেশনের চোখে কবীর সিং, দেবদাস কিংবা শেক্সপীয়ারের রোমিওর কথা মনে পড়ে। আসল প্রেমের অর্থ, একজনকেই ভালোবাসা এবং তাকেই সারাজীবন ভালোবেসে যাওয়া। সেদিক থেকে শ্রেষ্ঠ প্রেমিক নিঃসন্দেহে দেবাদিদেব মহাদেব। সতীকে তিনি ভীষণ ভালোবাসতেন, সবসময় আগলে রাখতেন, এবং প্রয়োজনে স্বাধীনতাও দিতেন। কিন্তু কিছুক্ষেত্রে প্রেমিকাকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত স্বাধীনতা দেওয়াও বিপজ্জনক হয়, সতীর ক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছিল। বারণ করা স্বত্বেও মহাদেবের ইচ্ছের বিরুদ্ধে সতী তাঁর বাবার আয়োজন করা যজ্ঞে যান এবং সেখানে গিয়েই প্রাণ হারান। মহাদেব তাও দমেন নি। সতীর মৃত্যুর পরেও মহাদেব অন্য কোনো নারীর দিকে তাকান নি। সতী আবার জন্ম নেন পার্বতী রূপে। শিব পার্বতীকে স্ত্রী হিসাবে পাবার জন্য আবার লড়াই করেন, ত্যাগ করেন, প্রচুর অপমান ও বঞ্চনা সহ্য করেন, আর শেষ পর্যন্ত পার্বতীকেই পত্নী হিসাবে পান।
ইমেজ ক্রেডিটঃ ফেসবুক
প্রেমিকাকে ভালোবাসো, যথেষ্ট ছাড় দাও। কিন্তু যদি বোঝো সে কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে তবে তাকে জোর করে আটকে রাখাও জরুরী। অনেক সময় ছোটখাটো ভুল সিদ্ধান্তই গোটা সম্পর্ককে শেষ করে দিতে পারে এক নিমেষে। মেয়েরা শিবের মত স্বামী চায়, শিবরাত্রিতে উপোষ করে। অথচ এত দেবতা থাকতে তারা কেন শিবকেই স্বামীরূপে চায়, সেটা তারা নিজেরাই বেশিরভাগ জানেনা।শিবকে একটু গভীরভাবে অ্যানালাইসিস করলে এমন অনেক গুন দেখতে পাবে, যেগুলো একজন ছেলেকে পুরুষে রূপান্তরিত করে। দশজনের সাথে সমান্তরাল প্রেম করলেই কেউ পুরুষ হতে পারেনা, একজনকে সারাজীবন ভালোবাসাই পুরুষত্ব। পুরুষ হবার জন্য  শারীরিক গঠন, গার্লফ্রেন্ডের সংখ্যা, ড্রেসিং সেন্স ম্যাটার করেনা। পুরুষ হতে গেলে চাই অবলাকে রক্ষা করার ক্ষমতা, কঠিন সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা, ভালোবাসার ক্ষমতা। আর সেদিক থেকে দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালন করা মহাদেবই সর্বশ্রেষ্ঠ পুরুষ। 
ইমেজ ক্রেডিটঃ ফেসবুক

পোস্টটা ভালো লেগে থাকলে অবশ্যই একটু Comment করে তোমার মতামত আমায় জানিও |তোমার মূল্যবান মতামত আমাকে বাড়তি অনুপ্রেরণা যোগাতে ভীষনভাবে সাহায্য করে।

No comments:

Post a comment