Saturday, 15 February 2020

আপনার অনুপ্রেরণামূলক দক্ষতা কীভাবে উন্নত করবেন, সিরিজ-৮০(প্রেরণা)[How to Improve Your Motivational Skill, Series-80(Prerana)]


প্রেরণা সিরিজ - ৮০,PRERANA SERIES-80(Motivational & Inspirational)
লেখক – প্ৰদীপ কুমার রায়।

আগেই বলে নিচ্ছি কেননা তোমরা পরে ভুলে যাবে বাকি অন্যান্যদের  সাহায্যের উদ্দেশ্যে শেয়ারটা মনে করে,করে দেবে এবং ডানদিকের উপরের কোনে অনুসরণ বাটন অবশ্যই ক্লিক করে অনুসরণ করবে।শুরু করছি আজকের বিষয় 
নমস্কার বন্ধুরা আমি প্রদীপ  তোমাদের সবাইকে আমার এই Pkrnet Blog   স্বাগতম।আশা করি সবাই তোমরা  ভালোই  আছো  আর  সুস্থ আছো।




যখন কোনো ব্যক্তি কোনো ঘটনার ভিতর অন্যায়কে দেখতে পায়, তখন সেই ঘটনাটা তার হৃদয়কে তছনছ করে দেয় আর  সমস্ত জগতকে সে  নিজের শত্রূ  রূপে জ্ঞান করতে থাকে।  অন্যায় বলে মনে হওয়া  সেই ঘটনা যত বিরাট হয় , মানুষের হৃদয়ও কিন্তু ততই বিরোধিতা করতে থাকে। সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সে ন্যায়  দাবি করে।  আর এটা তো যোগ্য কথা বাস্তবিক সংসারের যে  কোনো রকমের অন্যায়  ব্যক্তির আস্থা ও বিশ্বাসের বিনাশ করে। কিন্তু এই  ন্যায় কাকে বলে, এর অর্থ কি?  অন্যায় যে করেছে সে যদি অনুতপ্ত হয় , আর যার  উপর অন্যায় হয়েছে তার মনে যদি আবার বিশ্বাস জাগে  সমাজের প্রতি, তাকেই তো ন্যায় বলে। কিন্তু যার  হৃদয়ে ধৈর্যের স্থান নেই, সে ন্যায়ের পথ ছেড়ে দন্ধ আর প্রতিশোধের পথ বেছে নেয়।  হিংসার বদলে প্রতিহিংসার ভাবনা নিয়ে সে এগিয়ে যায়। স্বয়ং যা পীড়া ভোগ করেছে তার অধিক পীড়া অপরকে দেওয়ার প্রয়াস করে।  আর এই পথে চলতে গিয়ে অন্যায় যার উপর হয়েছে, সেই স্বয়ং অন্যায় করে ফেলে।  শিঘ্রই সে অপরাধী হয়ে যায় অর্থাৎ ন্যায় আর  প্রতিশোধের মধ্যে খুব ক্ষুদ্র ফারাক থাকে।  আর সেই ফারাকের  নামই হলো ধর্ম , এটা কি সত্য নয় ? 

দুই ব্যক্তি যখন নিকটে আসে তখন  তারা একে অপরের জন্য সীমা আর মর্যাদা নির্ধারণ করার চেষ্টা অবশ্যই করে। আমরা যদি  সমস্ত সম্পর্কগুলোকে বিচার করে দেখি , এই সমস্ত সম্পর্কের আধার সেই সীমারেখা আজ আমরা একে অপরের জন্য নির্মাণ করি আর যদি  অজান্তে সেই দ্বিতীয় ব্যক্তি  সীমারেখা লংঘন করে তাহলে সেই ক্ষণেই  আমাদের হৃদয় ক্রোধে ভরে যায়। এই সীমারেখার বাস্তবিক রূপ  কি , আমরা কি  কখনো বিবেচনা করেছি ? সীমা বেঁধে দিয়ে আমরা তৃতীয় ব্যক্তিকে নির্ণয় করার  অনুমতি দিই না , নিজের নির্ণয়  সেই ব্যক্তির উপর চাপিয়ে দিই , অর্থাৎ   তার স্বতন্ত্রতাকে অস্বীকার করি আমরা।  আর যখন স্বতন্ত্রতাকে  অস্বীকার করা হয় তখন তার হৃদয় দুঃখে ভরে  যায়।   যখন সে সীমারেখা লংঘন করে , তখন আমাদের হৃদয় ক্রোধে ভরে যায়।  এমনটাই হয় না কি ?  কিন্তু  যদি আমরা একে অপরের স্বাতন্ত্রতাকে  সম্মান করি তাহলে কোনো রকম কোনো সীমার প্রয়োজনীয়তাই পড়ে না।  অর্থাৎ যে প্রকারের  বোঝাপড়া, যেকোনো সম্পর্কের দেহ,  ঠিক সেইভাবেই স্বতন্ত্রতা সে সম্পর্কের  আত্মা  নয় কি , স্বয়ং বিচার করুন। নির্ণয় নেওয়ার মুহূর্তে আমরা সর্বদা  কোনো অন্য ব্যক্তির  উপদেশ , সূচনা বা পরামর্শকে আধার  করে থাকি আর আমাদের ভবিষ্যতের আধার হয়ে ওঠে আমাদের আজকের  নেওয়া সিদ্ধান্ত।  তাহলে কি আমাদের ভবিষ্যত ,অন্য ব্যক্তির পরামর্শ বা কোন অন্য ব্যক্তিদের উপদেশের ফল , তবে কি আমাদের সম্পূর্ণ জীবন কোন অন্য ব্যক্তির বুদ্ধির  পরিণাম ?  কি কখনো বিচার করেছি? সবাই জানে যে ভিন্ন ভিন্ন লোক একই পরিস্থিতিতে ভিন্ন ভিন্ন পরামর্শ দিয়ে থাকেন। 

জীবনে যদি কিছু করতে চাও তাহলে সত্যিটা বলো, ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে কথা বলোনা, সবচেয়ে বড় রোগ, কি বলবে লোক। না পালাতে হবে, না থেমে পরতে হবে , শুধু চলতে হবে, শুধুই চলতে হবে। তুমি  এটাই ভাবছো না যে; তোমার বাড়ির লোক কী ভাববে, তোমার আত্মীয়রা কি ভাববে? ভালোই তো, ভেবেই যাও  । তবে,তোমায় শক্তিশালী হতে হবে, এইজন্য না যে তুমি কারোর উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারো বরং এইজন্যই যাতে তোমার উপর কেউ চাপ সৃষ্টি করতে না পারে। শেখার উপর মনোযোগ দাও, উপার্জনের উপর নয়  উপার্জন সর্বদা ভবিষ্যতে হওয়া সম্ভব কিন্তু শেখা শুধু বর্তমান মুহূর্তেই হয়  তাই শেখার উপরেই মনোযোগ দাও, উপার্জনের উপর নয়। শুধুমাত্র তুমিই  তোমার  জীবন পরিবর্তন করতে পারো । তোমার হয়ে  কেউ এটি করতে পারবে  না। শুধুমাত্র জ্ঞানই যথেষ্ট নয় বা শুধুমাত্র ইচ্ছাশক্তিই যথেষ্ট নয়, তোমাদের অবশ্যই বিশ্বাস করা উচিত যে তোমার  জীবনের  পরিবর্তন কেবলমাত্র তোমার দ্বারাই সম্ভব ।  চিন্তাভাবনা করা সহজ, কিন্তু তাকে প্রয়োগ  করা কঠিন এবং নিজের চিন্তাকে কার্যক্ষম করে তোলা বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন বিষয়।

জীবনে অনুপ্রেরণার গুরুত্ব যে কতটা,তা আমরা কমবেশি প্রত্যেকেই জানিপ্রত্যেক মানুষই চায় তারা যেন সর্বদা অনুপ্রাণিত থাকেন । এই অনুপ্রেরণা মূলক বিচার গুলিকে বাস্তব জীবনে ঠিক  মত মেনে চললে যে কোনো মানুষের জীবন অনয়াসেই বদলে যেতে পারে 

মোটিভেশনাল ভিডিও দেখতে উপরের ডানদিকের কর্নারে YouTube লিঙ্ক অথবা এখানে Pkrnet এই লিঙ্কটির উপর ক্লিক করুন।
এতক্ষণ সময় দিয়ে পড়ার জন্যে তোমাকে  অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই  পিকেআর নেট  ব্লগ - এর পক্ষ থেকে | 
পোস্টটা ভালো লেগে থাকলে অবশ্যই একটু Comment করে তোমার মতামত আমায় জানিও |তোমার মূল্যবান মতামত আমাকে বাড়তি অনুপ্রেরণা যোগাতে ভীষনভাবে সাহায্য করে।


No comments:

Post a comment